আইন আদালত

  প্রতিনিধি ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ , ১১:৫৩:৪২ প্রিন্ট সংস্করণ

নিজস্ব প্রতিবেদক,টেকনাফ:

দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে মিয়ানমার কারাগারে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাভোগ করার পর স্বদেশে ফেরত এসেছে ২৪ বাংলাদেশী নাগরিক।

২৩ ফেরুয়ারি (মঙ্গলবার) উভয় দেশের পতাকা বৈঠক শেষে তাদেরকে স্বদেশে নিয়ে আসতে সক্ষম হয় টেকনাফ ২ বিজিবি।সকাল সাড়ে ৯ টায় মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ১নং এন্ট্রি/এক্সিট পয়েন্ট, মংডুতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এবং ৪ নম্বর বর্ডার গার্ড পুলিশ ব্রাঞ্চের মধ্যে এই পতাকা বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশী নাগরিকগণ বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার অপরাধে সেই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে আটক হয়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে মিয়ানমারে কারাভোগ করেন।
সেখান থেকে সাজাভোগকৃত ২৪ জন বাংলাদেশী নাগরিককে উভয় দেশের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরৎ আনতে সক্ষম হয় বিজিবি।

এ বিষয় নিয়ে দুপুর ১টার দিকে টেকনাফ ২ বিজিবি অধিনায়ক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং আন্তরিক পরিবেশে পতাকা বৈঠকটি সম্পন্ন হয়।

তিনি জানান পতাকা বৈঠকে ৯ সদস্য বিশিষ্ট বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বদেন ২ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান, বিজিবিএম, পিএসসি এবং ০৭ সদস্য বিশিষ্ট মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বদেন ৪ নম্বর বর্ডার গার্ড পুলিশ ব্রাঞ্চের কমান্ডিং অফিসার Police Lieutenant Colonel Zaw Lin Aung।

পুলিশ লে. কনেল জু লিন অং মিয়ানমার হতে ফেরত আনা ২৪ জন বাংলাদেশী নাগরিককে পুলিশের সহায়তায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এর সমন্বয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ফেরত আসা ২৪ বাংলাদেশী নাগরিকরা হচ্ছে,
রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী ধুবুয়া লামাপাড়া, চাইরুই মারমার পুত্র পাইসেহলা, একই এলাকার টুইকাহার সান সুর পুত্র মংচিং মারমা, কুলার পাড়ার থৈইনু থৈইনুর পুত্র থৈঅংরী মারমা,টেকনাফ হোয়াইক্যং ইউপি উত্তরপাড়া এলাকার মো.গিয়াস উদ্দিনের পুত্র জুনায়েদ,উলুবুনিয়া এলাকার আব্দুল জলিলের পুত্র রুবেল, লম্বাবিল এলাকার মোহাম্মদ ইসমাইলের পুত্র আব্দুল কাদের ,একই এলাকার জাকির আহমেদ’র পুত্র অলি আহমেদ, হ্নীলা দমদমিয়া এলাকার করিমুল্লাহর পুত্র রহমত উল্লা,শাহপরীরদ্বীপ উত্তর পাড়ার লাল মিয়ার পুত্র এনায়েত উল্লাহ, একই এলাকার মৃত জালাল আহমেদ’র পুত্র সিরাজুল্লাহ,আবদুর শুক্কুর (মিজি)র পুত্র মোহাম্মদ আয়েস, নাইক্যংপাড়া এলাকার মোহাম্মদ শরীফ’র পুত্র মোহাম্মদ উল্লাহ, টেকনাফ সদর ইউপি বড়ইতলী এলাকার জহির আহাম্মদ’র পুত্র মো.সাদেক,
আমানুল্লাহর পুত্র মো. সলিম, হ্নীলা এলাকার মো.হুসাইন’র পুত্র ইমান হুসাইন, আলীপাড়া এলাকার মৃত মীর আহমেদ’র পুত্র নুরুল আলম, বান্দরবান জেলার কুহালং এলাকার ক্যচিং মং এর পুত্র চাই-চাই প্রু মারমা, একই এলাকা উথেইসেনের পুত্র পুকুয়েটসে, হ্নীলা দমদমিয়া এলাকার ইয়াসিন’র ছেলে মোঃ সাবুর, রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী পূর্ব সোনাই ছড়ি এলাকার চাই থৈয়াইউ মারমার মেয়ে মিস অঞ্জনা মারমা, একই এলাকার আগ্রা মারমার পুত্র উচিংনু মারমা,
কাশখালী পশ্চিম মোনাইপাড়া এলাকার থৈসামং মারমার পুত্র কংচিংউ মারমা, দুসরী পাড়া এলাকার উশোপ্রু মারমার পুত্র সাথোয়াইমং মারমা, পাওপাড়া এলাকার মংসা মারমার ছেলে থৈয়াইপ্রু অং মারমা।

মিয়ানমার কারাগার থেকে দীর্ঘ ৩ বছর পর মুক্ত হয়ে স্বদেশে ফেরত আসা মো.সাদেক জানান নাফনদীতে মাছ শিকার করতে গিয়ে বাংলাদেশ জলসীমা অতিক্রম করার অপরাধে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা আমাকে আটক করে ৫ বছর সাজা প্রদান করে কারাগারে পাঠায়।

অবশেষে বাংলাদেশ সরকার টেকনাফ ২ বিজিবির সার্বিক সহযোগীতায় দীর্ঘ তিন বছর পর মিয়ানমার কারাগার থেকে নিজ দেশে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছি।

সাদেক বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞ্যাপন করে আরো বলেন তাদের মত আরো অনেক বাংলাদেশী নাগরিক মিয়ানমার কারাগারে মানবেতর জিবন যাপন করছে। তাদেরকেও কারামুক্ত করে স্বদেশে ফেরত নিয়ে আসার দাবী জানান।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, মিয়ানমার কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে স্বদেশে ফেরত আসা ২৪ জনের মধ্যে বেশীর ভাগ বাংলাদেশী নাগরিক অবৈধ পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় মিয়ানমার আইন-শৃংখলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছিল।আবার অনেকেই নাফনদীতে মাছ শিকারের কথা বলে বাংলাদেশ জলসীমা অতিক্রম ইয়াবা আনতে গিয়ে আটক হয়েছিল। তবে মুক্ত হয়ে আসা ২৪ বাংলাদেশী নাগরিকরা হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান।

তথ্য অনুসন্ধানে আরো দেখা যায়, মাদক কারবারে জড়িত মুলহোতারা আড়ালে থেকে হতদরিদ্র পরিবার’র সন্তানদের টাকার লোভে পেলে অবৈধ কর্মকান্ডে ব্যবহার করে থাকে।

আরও খবর 10

Sponsered content