অপরাধ

মহেশখালীতে কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়ম

  প্রতিনিধি ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ , ১১:৫৮:৩০ প্রিন্ট সংস্করণ

ফুয়াদ মাহমুদ সবুজ:

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালীর ফকিরাকাটা বেড়িবাঁধ সড়কের ২কিলোমিটার সড়ক নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মহেশখালী প্রকৌশলী অফিস (এলজিইডি) সূত্র জানা যায়, গত অর্থবছরে আগস্টে বড় মহেশখালীর ফকিরাকাটা বেড়িবাঁধ সড়কটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। সড়ক নির্মাণে বরাদ্দ ধরা হয় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। টেন্ডারে কাজটি পায় মেসার্স আইয়ুব কন্সট্রাকশন নামে এক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। যার মালিক পার্শ্ববর্তী চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ঠিকাদার গিয়াস উদ্দিন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করে। কাজের শুরুতে নিম্নমানের ইট, বালি দিয়ে কাজ শুরু করলে স্থানীয়দের বাঁধার তোপে পড়ে ঐ ঠিকাদারি প্রতিষ্টান। পরে সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি জানতে পারলে কিছু ইট ফেরত দিয়ে যথাযথ সঠিক মেটেরিয়াল দিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু এতেও কোন সুফল হয়নি, ফের নিম্মমানের ইট বালি দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে সড়ক নির্মাণের কাজ।

মহেশখালী এলজিইডির এক উপ-সহকারী প্রকৌশলী জানান, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সড়কের বেডকাটিং করার পর ৬-৭ ইঞ্চি বালি ফেলে মজবুত করতে হবে। এরপর হাফ ইঞ্চি পর পর ইটের সলিং বিছিয়ে তারপর বালি দেয়া হয়। বালির উপরে এক নাম্বার ইট দিয়ে হেরিংবন্ড সম্পন্ন করতে হবে। কোনো অবস্থাতে সলিং হাফ ইঞ্চির বেশি কিংবা দুই নম্বর ইট ব্যবহার করা যাবে না।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঠিকাদার তড়িঘড়ি করে হাফ ইঞ্চির জায়গায় এক ইঞ্চি থেকে দুই ইঞ্চি গ্যাপ রেখে এবং কিছু নিম্নমানের ইট দিয়ে সলিং নির্মাণের কাজ করছেন। এমনকি সলিং নির্মাণের সঙ্গে সঙ্গে বালি দিয়ে সলিং ঢেকে দিয়ে হেরিংবন্ডের কাজ করছেন ঠিকাদার।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করা শ্রমিকের মাঝি কামাল হোসেন জানান, কাজ শুরুতে কিছু নিম্নমানের ইট ব্যবহার হয়েছিলো, পরে অবশ্য কিছু ইট ফেরতও দেওয়া হয়েছিলো। তিনি বলেন, নিম্নমানের ইট ব্যবহারের কারণে কিছু স্থানীরা এসে কাজে বাঁধা দেয় পরে ঠিকদারসহ স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে সবকিছু ঠিকঠাক করে আবারও রাস্তার কাজ চলছে বর্তমানে।

বড় মহেশখালীর ফকিরাকাটার ফরিদুল আলম জানান, আমরা বেড়িবাঁধবাসী অনেক দিন পর একটি সড়ক পেয়েছি। কিন্তু যে ভাবে অনিয়ম করে নিম্নমানের ইট বালি দিয়ে রাস্তা তৈরী করছে তা নিমিষেই নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু এসবের জন্য আমরা স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলেও কাজ হচ্ছে না।

নুর আহমদের পূত্র এনাম নামো এক ব্যক্তি বলেন, এই সড়কটি দীর্ঘদিন থেকে অবহেলিত। সড়কটির নির্মাণকাজ সঠিকভাবে করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। আমরা ঠিকাদারকে নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ করতে নিষেধ করলেও তিনি মানছেন না। এভাবে কাজ করার ফলে সড়কটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আমরা এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চেয়ারম্যান সড়ক নির্মাণ কাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করার কথা অস্বীকার করে বলেন, ভাটা থেকে ইট নিয়ে আসার সময় কিছু খারাপ ইট আসতে পারে।

মহেশখালী উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে বলেন, রাস্তার কাজ শুরুর দিকে দুই গাড়ি নিম্নমানের ইট আনলে তা আমরা সাথে সাথে ফেরত দিই এবং নিম্মমানের কোন কাজ করা যাবে না বলে ঠিকাদারকে সর্তক করি। সড়ক নির্মাণে তদারকি আরও বাড়ানো হয়েছে। আমার কাজ যে রকম নির্দেশনা আছে সেরকম বুঝিয়ে নেওয়া হবে। কাজে কোন রকম অনিয়ম পেলে আমরা কাজ বুঝিয়ে নেব না এবল বিল আটকিয়ে দেওয়া সহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও খবর 99

Sponsered content