অপরাধ

পেকুয়ায় জমি বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষ, মহিলাসহ আহত-১২

  প্রতিনিধি ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ , ১১:০০:১১ প্রিন্ট সংস্করণ

আমিনুল ইসলাম বাহার,পেকুয়া:

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নে জমি বিরোধের জের ধরে দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তঃসত্বা মহিলাসহ অন্তত ১২জন আহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ফেব্রুয়ারী) দুপুর ১২টার দিকে রাজাখালী ইউনিয়নের বামুলাপাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে আশংকাজনক অবস্থায় মহিলাসহ তিন জনকে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করেছে কর্মরত চিকিৎসক। গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

আহতরা হলেন, একই এলাকার মৃত নুরুল আলমের স্ত্রী রাশেদা বেগম(৫০) তাঁর ছেলে মুনির আলম (৩৮), তারেকুল ইসলাম(৩২), মোঃ ফারুক(১৯), মোঃ ইদ্রিস(৩০), মেয়ে মিলি আকতার(১৭), ৫ম শ্রেণীর স্কুল পড়ুয়া ছাত্রী মনিফা আকতার (১০) ও ছৈয়দনুরের অন্তঃসত্বা স্ত্রী সুখি ইয়াসমিন (৩৫)। অপর পক্ষের আহতরা হলেন মৃত ছৈয়দ আহমদের পুত্র জাফর আলম(৬৫), আবুল হোসেনের স্ত্রী দিলুয়ারা(৪০), রমজান আলীর স্ত্রী মুনিরা ইয়াছমিন(৩৫), মনছুর আলমের স্ত্রী গোল চেহের(৪০), মোছলেম উদ্দিনের স্ত্রী মোস্তাফা খাতুন(৫৫) ও জাফর আলমের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম(৪৫)। আহতদের মধ্যে নুরুল আলম গং এর মোঃ ফারুক(১৯), মুনির আলম(৩৮) ও তাদের মা রাশেদা(৫০)কে আশংকা জনক অবস্থায় চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, চরিপাড়া এলাকার ছৈয়দ আহমদের ছেলে জহিরুল আলম গং ও মৃত নুরুল আলমের ছেলে মুনির আলম গং এর মধ্যে ৩৪শতক জমি নিয়ে বিগত কয়েক মাস পূর্ব থেকে বিরোধ চলছে। এরই জের ধরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

তথ্য সংগ্রহে দু’পক্ষের পরষ্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। জমির মালিক দাবীদার জহিরুল আলম জানান, রজাখালী মৌজার জমা বন্ধি খতিয়ান নং ১৯৮/২১৩, জোত নং ৩৩১, বি.এস দাগ নং ৪৩০২, ৪৩০৩ এর বন্দোবস্তিপ্রাপ্ত ৮৪শতক জমির মালিক হই। বিগত ৪০ বছর ধরে বন্দোবস্তিকৃত ওই দখলীয় জমিতে লবনের মাঠ করে আসছি। বর্তমানে বিএস রেকর্ডীয় সংশোধনী মামলা চলছে। গত তিন মাস পূর্বে আমাদের দখলীয় জমিতে জোর পূর্বক ঘর নির্মানের চেষ্টা চালায় প্রতিপক্ষ মুনির আলম গং। জবর দখলের চেষ্টার বিষয়টি পেকুয়া থানা পুলিশকে অবগত করেছি। ঘটনার দিন কুচক্রী মহলের ইন্দনে প্রতিপক্ষের লোক আমাদের জায়গায় ঘর নির্মানের জন্য আসিলে আমারা তাঁদের বাধা দিই। ওই সময় তাঁরা আমার পরিবারের উপর হামলা চালায়।
এবং এলোপাতাড়ি মারধর করতে শুরু করে।

এ বিষয়ে রাজাখালী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ছৈয়দনুর জানান, দীর্ঘদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজিজুর রহমান আজুকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে এটি বিচারাধীন রয়েছে। ঘটনারদিন জমি দখলে নিতে দু’পক্ষ মাঠে নামে। এর জের ধরে এ সংঘর্ষ হয়।

এব্যাপারে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, জমি বিরোধ নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনার খবর শুনেছি। তবে এ ঘটনায় এখনো কোন পক্ষের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

আরও খবর 99

Sponsered content